তুমি আমার হাতটি ধরো
আমি তোমার হাতটি ধরি
ভুল দুপুরে দুজনে এসো
হঠাৎ প্রেমে পড়ি
তুমি হও ইচ্ছের আকাশ
আমি নাটাই ছাড়া ঘুড়ি
তোমার বুকের অসীম নীলে
স্বপ্ন মেলুক কুঁড়ি
কিংবা আমি হই প্রমোদ তরী
তুমি আমার বন্দর
অথবা তুমি হও বিষ নাগিনী
আমি লক্ষীন্দর//
তুমি আমার হাতটি ধরো
আমি তোমার হাতটি ধরি
ভুল দুপুরে দুজনে এসো
হঠাৎ প্রেমে পড়ি
তুমি হও ইচ্ছের আকাশ
আমি নাটাই ছাড়া ঘুড়ি
তোমার বুকের অসীম নীলে
স্বপ্ন মেলুক কুঁড়ি
কিংবা আমি হই প্রমোদ তরী
তুমি আমার বন্দর
অথবা তুমি হও বিষ নাগিনী
আমি লক্ষীন্দর//
তুমি আমার নির্ঘুম রাত
ঘামে ভেজা আদুরে হাত
তুমি আমার লাজুক সকাল
সদ্য স্নাত টোলপড়া গাল
তুমি আমার রোদেলা শহর
নিশ্চুপ দুপুর দুষ্টু প্রহর
তুমি আমার খুব প্রিয় গান
শেষ বিকেলের অভিমান
তুমি আমার সন্ধ্যাবেলার ফুল
হঠাৎ করা স্বেচ্ছাচারী ভুল//
আর কি চাও তুমি
উদ্দাম যৌবন নিংড়ে ভালোবাসা দিয়েছি
সমর্পণ করেছি অনাঘ্রাত হৃদয়
উৎসর্গ করেছি শ্রেষ্ঠ সময়
তবু কেন হলে না সদয়?
আর কতো টুকু চাও
কতো কি পাওয়া হলে থামবে তুমি
কতো বেপরোয়া চুম্বনে মিটবে অধর তৃষ্ণা
দুর্বিনীত বাসনার রাতে
কতোটা নির্লজ্জ সুখে শীতল হবে ভূমি?
রমণ ক্লান্তির পরে
হৃদয়ে কতো টুকু প্রেম ঢেলে দিলে
অতঃপর তুমি প্রেমিকা হবে
আড়ষ্ঠ চিবুকে কতোটুকু স্পর্শ মেখে দিলে
অবশেষে তুমি কবিতা হবে?
তুমি যদি কখনো না থাকো তবে
জানিনা আমার তখন কি হাল হবে
শার্টের বোতাম না লাগানোর ভুল
দেখিয়ে দিবে কে উঁচিয়ে আঙুল
কে খুঁজে দিবে চশমা কিংবা ঘড়ি
ঠিকঠাক লাগিয়ে দিবে মশারির দড়ি
দুধ চিনি কে মিশিয়ে দিবে চা'য়ে
ঘুমিয়ে গেলে চাদর টেনে দিবে গায়ে
বদলে দিবে কে ফুলদানির বাসি ফুল
ঠিক করে দিবে অগোছালো নষ্ট চুল
জানিনা আমার তখন কি হাল হবে
বিরহের আগুনে শুধু পুড়বো নীরবে//
তুমি আমায় যাদুর মতো টানো
টেনে কেনো কাছে আনো
আমি যে কালান্তরের চিল
বুকের ভিতর কষ্টের মিছিল
অবুঝ মেয়ে তুমি কি তা জানো
তুমি কি জানো...
ভিতরে ভিতরে গেছি আমি ধ্বসে
কিছুই পাবে না আর হৃদয়ে হৃদয় ঘসে
পরিপাটি আমি এখন দুমড়ে মুচড়ে আছি
জীবন নৌকার হাল ভেঙ্গেছে হারিয়ে গেছে কাছি
কেউ জানে না কেউ বোঝে
না
দুঃখ তাপে এই হৃদয় কতোটা ঝলসানো
তুমি আমায় যতোই কাছে টানো
অগোছালো জীবন এখন হ্যাঙ্গারে আঁটকানো//
সন্ধ্যার মেঘ মালা হয়ে সখি
আমার আকাশে এসো
শাদা বক পাখি হয়ে
না বলে আসা বৃষ্টি হয়ে
দিও চোখের কার্নিস ছুঁয়ে
সাত জাহান্নামের জমানো পাপ
জলোচ্ছ্বাসে দিও ধুয়ে
এসো ঝরাপাতার চিঠি হয়ে
আমার আঙিনাতে
ঝড়ো হাওয়া হয়ে এসো
বর্ষণ মুখর রাতে
তছনছ করে দিওগো আমায়
রিক্ত করে দিও
মধ্য রাতের বৃষ্টি হয়ে
সিক্ত করে দিও//
স্নানের ঘরে জলের শব্দ কে করে গো স্নান
জলের সঙ্গে গড়িয়ে যায় কার যে অভিমান
বুকের ভিতর কে পুষে গো দুঃখের হিমাচল
অঙ্গ ধোয়া জলের সঙ্গে মিশায় চোখের জল
স্নানের ঘরে জলের শব্দ কে করে গো স্নান
নোনা জলে কে লিখে হায় কষ্টের উপখ্যান?//
সকালের রোদ গায়ে শুয়েছিলাম, আহা কি সুখ
’সুপ্রভাত’ বললো এসে এক রমণীয় মুখ
বাসি মুখে তার হাসি মুখ দেখে হলেম পাগলপরা
স্বর্গ থেকে নেমে এলো বুঝি এক অপূর্ব অপ্সরা
আমি স্বপ্নের মাঝে তাকে দেখে হয়ে গেলাম ফিদা
একটু ছুঁয়ে দেখবো কিনা করছিলাম দ্বিধা
হঠাৎ কনুইর এক গুঁতো এসে লাগলো পাঁজরে
চোখ মেলে রোজ দেখা মুখখানি দেখি আজও রে
বললেন তিনি, বেলা হয়েছে বাজারে কি যাবে না
দেরি করে বাজারে গেলে ভালো কিছুতো পাবে না
সহসা বাজারে যাওয়ার জন্য করি শয্যা ত্যাগ
হায় কোন শালা বানিয়েছে এই বাজারের ব্যাগ?
চাঁদ আর আসেনি আমার ঘরে
আসেনি ভোরের বাতাস
দেখিনি খোলা আকাশ
বিছানা ভিজেনি বৃষ্টির ছাঁটে
রোদ এসে ঘুমায়নি আর খাটে
তুমি যাবার পর
বন্ধই আছে শূন্য ঘর
ফুলদানিতে শুকিয়ে গেছে ফুল
এলোমেলো হয়ে আছে নষ্ট চুল
কেউ এসে নাড়েনিতো কড়া
অলক্ষ্যে ঘরে ঢুকে পড়েনিতো ধরা
তোমার প্রস্থান
আমার মৌন অভিমান
শুধু হৃদয় ভেঙ্গে হলো খান খান//